Posts

বিষাক্ত মাকড়সার জাল

Image
পর্নোগ্রাফি এক বিষাক্ত মাকড়সার জালের নাম।যে জালে আটক হয়েছে কোটি কোটি যুবক-যুবতী সহ সকল স্তরের মানুষ। বর্তমান সময়ে যুবসমাজে যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুন।দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একে অপরের পরিপূরক। একে সমস্যা বলার চেয়ে নীরব মহামারি বলা শ্রেয়। এসবের কথা বলা 'ট্যাবু'। তিলে তিলে শেষ হতে থাকলেও কারো সাথে যায় না বলা,একটুখানি সহায়তা পাওয়া।এমনই এক অদৃশ্য মহামারী এই জগতে বেশিরভাগ পদার্পণ করে বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে।প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের যুগে মোবাইল,ইন্টারনেট সকলের হাতের মুঠোয়। প্রযুক্তি জীবন সহজ,দ্রুত করে দিলেও নিয়ে এসেছে নানাবিধ অভিশাপ। ফলে খুব অল্প বয়সে হয়ে যাচ্ছে পর্নে হাতেখড়ি।নানা জরিপে উঠে এসেছে প্রথমবার পরিচিত হবার গড় বয়স ১১। সবচেয়ে বেশি আসক্ত ১২-১৭ বছর বয়সীরা।[১] যুব সমাজ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পর্নের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ পর্যন্ত,ছেলে-মেয়ে সকলে। এর ভয়াল থাবা ছড়াতে কোনো বৈষম্য করে না।এটা যে কত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সেটা যেকোনো পরিসংখ্যানে স্পষ্ট।২০১৭ সালের একটি পর্নসাইটের*বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ ত...

হারাম রিলেশনশিপ/যিনা নিয়ে যত প্রশ্ন

Image
প্রশ্ন ১ঃ পূর্বের হারাম রিলেশনশিপের কথা পাত্র/পাত্রীকে কিংবা বিয়ের পর স্বামী/স্ত্রীকে বলা জরুরী কিনা? যখন কোন মানুষ তার অতীত গুনাহ থেকে তাওবা করে ফিরে আসে আল্লাহ তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেন।অনেক ভাই বোনেরা পাত্র/পাত্রী দেখার সময় প্রশ্ন করেন আপনার অতীত কোন সম্পর্ক ছিলো কিনা?এই প্রশ্ন করাটাই অযৌক্তিক।ব্যক্তি যে গুনাহ গোপনে করেছে ও যে গুনাহ থেকে তাওবা করেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করাই উচিত না। একজন মানুষ অতীতে কেমন ছিলো তা দিয়ে তার বর্তমান সময় বিবেচনা করা উচিত না।সাহাবা(রাঃ) গণ যখন কাফের ছিলেন তারা পাপাচারে লিপ্ত ছিলো,উনারা যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন সাথে সাথে সকল গুনাহ ছেড়ে দিলেন।এক একজন হয়ে গেলেন আমাদের জন্য আদর্শ।যারা ঈমান আনার পূর্বে ছিলো হাজারো পাপাচারে লিপ্ত,তারা ঈমান আনার পর হয়ে গেলো উত্তম আখলাকের উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তান। প্রশ্ন ২ঃ হারাম রিলেশনশিপ ছিলো কি না এই প্রশ্নের জবাবে কি উত্তর দিবেন? যদি হারাম রিলেশনশিপ পূর্বে থেকে থাকে,তাহলে সহজ ভাবে বলুন আপনার কোন হারাম রিলেশনশিপ নেই।নেই বললে মিথ্যা হবে না।কারণ অতীতে ছিলো এখন বর্তমানে নেই।কেউ যদি প্রশ্ন করে এখন তো নেই অতীতে ছিলো কি না?তখন শান্তভাবে উ...

মৃত্যু

Image
 মৃত্যু নিয়ে এতো সুন্দর লেখা আগে পড়িনি,একটু পড়েই দেখুন না! পরলোকগত কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ যারাল্লাহর মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া কিছু অনুভূতি -  "মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।"  يُجَرِّدُونَنِي مِنْ مَلَابِسِي তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে ,يَغْسِلُونَني আমাকে গোসল করাবে ,يَكْفِنُونَنِي (তারপর) আমাকে কাফন পড়াবে, يُخْرِجُونَنِي مِنْ بَيْتِي আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে, يَذهَبُونَ بِي لِمَسَكِنِي الجَدِيدِ (القَبْرُ) আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে, وَسَيَأتِي كَثِيرُونَ لِتَشْيِيْعِ الجَنَازَتِي আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে, بَلْ سَيَلْغِي الكَثِيرُ مِنهُم أَعْمَالَهُ وَمَوَاعِيدَهُ لِأَجْلِي دَفْنِي অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে, وَقَدْ يَكُونُ الكَثِيرُ مِنهُم لَمْ يَفَكِّرْ في نَصِيحَتِي يَوماً مِنْ الأيّامِ কিন্তু দুঃখজনক...

কাঁচের দেয়ালে বন্দি

Image
জীবন অনেক ক্ষেত্রে অনেক কষ্টের হতে পারে তবুও একটা কথার উপর বিশ্বাস আস্থা রেখে সামনে এগিয়ে যাই,"কষ্টের পরই আসে সস্তি"।আমার মৃত্যুর পর কেউ আমাকে আর আমার নাম ধরে ডাকবে না।সবাই আমাকে এভাবে সম্বোধন করবে,"লাশ কি আসছে,লাশের জানাযা কয়টায়,লাশের গাড়ি আসতে কতক্ষন,লাশ আসছে?"যখন আমাকে সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে রাখা হবে কিছুদিন পর আমার গায়ের উপরের বাঁশ পচার আগে আমার শরীর পচন ধরবে।কোন এক সময় একদল Anthropologist আমার হাড়গোড় খুজে পাবে এবং এটাকে নিয়ে তারা ল্যাবে নিয়ে,হাতে হ্যান্ড গ্লোবস পরে,গবেষনা করে বের করবে এটা কয়েক যুগ আগের হাড়।আমার হাড় নিয়ে তারা সংবাদ মাধ্যেমে কথা বলবে,বিভিন্ন আর্টিক্যাল লিখবে,শিরনামে লিখবে,"১০০ বছরের পূরনো হাড়ের দেখা মিলল..."এটা নিয়ে গর্ব করবে।তারা তাদের প্রজন্মদের বলবে এটা আমাদের পূর্ব-পুরুষদের হাড়।হয়তো কোন এক জাদুঘরে প্রদর্শনী হিসেবেও কাঁচের দেয়ালে বন্দি রেখে দেয়া হবে।

এক খন্ড হতাশা

Image
  জীবনের নানা বাঁকে মুমীনের জীবনে হতাশ হবার মতো পরিস্থিতি প্রতি পদে পদেই আসতে পারে।দুঃখ কষ্ট জীবনেই অংশ।এসব এলেই হতাশ হয়ে পড়া কোন মুমীনের লক্ষণ নয়। এগুলো এলে কি করতে হবে তা-ও আল্লাহপাক বাতলে দিয়েছেন। আল-কোরআনে বলা হয়েছে, ❝মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকতে শুরু করে, এরপর আমি যখন তাকে আমার পক্ষ থেকে নেয়ামত দান করি, তখন সে বলে, এটা তো আমি পূর্বের জানা মতেই প্রাপ্ত হয়েছি।অথচ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না❞(সুরা আল জুমার, আয়াত: ৪৯) সুরা মায়েদার ৭৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ❝তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু" (সুরা ময়েদা, আয়াত ৭৪) সূরা ইউনুস ১২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ❝আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই, সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোন কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপুত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে❞(সুরা ইউনুছ, আয়াত ১২) বলুনঃ ❝আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো...

নিজেকে ধংস করছি না তো!

Image
আজকাল আমরা উচ্চবিত্তের পেছনে এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছি যে,আমরা আমাদের রবকে ভূলে গেছি!একদিন যে আর অক্সিজেন নিতে পারব না একথাটাকেও ভূলে গেছি। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী দিনশেষে একদিন যা অবধারিত সেটা হচ্ছে মৃত্যু।মৃত্যুকেও আজ আমরা ভূলে গেছি!আল্লাহর কাছে কি জবাব দেব একাথাটাকেও ভূলে গেছি।সবাই আমরা এমন একটা ফ্যান্টাসিতে বসবাস করতেছি বুঝি কিন্তু আমরা কেউই মানি না।আমরা সবাই অর্থ /উচ্চ ক্যারিয়ার/ ভালো চাকরি ইত্যাদি নিয়ে ভাবি এই অর্থে আমরা উচ্চবিত্ত জীবন-যাপন করব,সমাজে উচ্চতর করে তুলবে।আমরা শুধু নিজেদের এবং অন্যদেরকে কিছু উন্মাদ প্রতিযোগিতায় নিমগ্ন হয়ে আছি  যা শেষ পর্যন্ত আমাদের আখিরাতের জন্য কোন লাভ হবে না।আমরা কেউই ভাবি না, "মরলে কি জবাব দিবো আল্লহর কাছে?"এই প্রশ্ন সম্পর্কে কেউ কিছু বলে না।পাশ করে বিদেশে যাবো, চাকুরী করবো,ব্যবসা করবো, অনেক টাকা হবে, প্রতিষ্ঠিত হব, সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করব,গাড়ি কিনব এটাই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য।এইসব প্রতিযোগীতা করতে গিয়ে আমরা কী যে হারাচ্ছি!এটা কবরে না গেলে আমরা বুঝব না!আসুন,এই ফ্যান্টাসি থেকে সবাই বের হয়ে আসি।নিজের জীবনে, পরিবারে,সমাজে আসল জীবনের উদ্দেশ্য প্রতি...

আমরা রুকু এবং সিজদায় যা যা বলি সেটা নিয়ে কখনো চিন্তা করেছেন কি?

Image
আমরা রুকু এবং সিজদায় যা যা বলি সেটা নিয়ে কখনো চিন্তা করেছেন কি? আমরা রুকুতে বলি, "সুবহানা রব্বিয়াল আযীম"। অর্থঃ"আল্লাহ আপনি কতই না পবিত্র এবং আপনি সবচেয়ে শক্তিধর।" আমরা সিজদায় বলি, "সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা". অর্থঃ''আল্লাহ আপনি কতই না পবিত্র এবং আপনার মাকাম সবচেয়ে উঁচু"। নামাজের মধ্যে শারীরিক দিক থেকে সবচেয়ে নড়বড়ে এবং দুর্বল অবস্থানটা হচ্ছে "রুকু"।রুকুতে থাকা অবস্থায় কেউ যদি নামাজরত বান্দাকে হালকা করেও একটা ধাক্কা দেয়, সে ধপাস্‌ করে মাটিতে পড়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। চমৎকার ব্যাপারটা হচ্ছে, আমরা যখন নামাজে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় থাকি, তখন বলি "আল্লাহ আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী!" আবার, আমরা যখন নামাজের মধ্যে সবচেয়ে নিচু অবস্থানে থাকি, তখন আল্লাহকে বলি যে, "আল্লাহ আপনি সবচেয়ে উঁচু!"  সুবহানাল্লাহ! কেবলমাত্র এই কনসেপ্টটা আমাদের নামাজকে অন্য আরেক ডাইমেনশানে নিয়ে যায়! নামাজ পড়তে পড়তে যেখানেই মন চলে যাক না কেন, রুকু আর সিজদাহ দেওয়ার সময় মনে পড়ে যায় যে, "আল্লাহ সবচেয়ে শক্তিধর এবং আল্লাহই সর্বোচ্চ!...